“ঘিরে ধরে কুয়াশা যখন…”

বিভিন্ন সময় বিভিন্ন মানুষ যারা আসলে অন্য জগতের তারকা, আমাদের বাংলা সাহিত্যে তাঁদের ছাপ রেখে গেছেন। অনুষ্ঠান বাড়িতে মূল আকর্ষণ সব সময়েই খাবারের দিকে থাকে। খাবারেরও ভাগ থাকে। মূল আকর্ষণ সাধারণত বিরিয়ানি বা চাউমিন ধরণের খাবার কিন্তু শেষ পাতে যদি চাটনি বা মিষ্টিটা অসাধারণ হয়, তাহলে মন ভালো হয়ে যায়। অন্য জগতের মানুষের সাহিত্যে অবদান অনেকটা ওই শেষ পাতের মিষ্টি-র মতন। এপিজে বাংলা সাহিত্য উৎসবের আজ প্রথম দিন। আজকের শেষ অধিবেশনের আলোচ্য বিষয়, “অন্যজগতের তারকা এলেন অন্যরকম লেখায়।” এই অধিবেশনে বক্তব্য রাখলেন বাংলা গানের কথা ও সুরের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়া ব্যক্তিত্ব নচিকেতা চক্রবর্তী, পশ্চিমবঙ্গ সরকারের “সঙ্গীত মহাসম্মান” পুরষ্কারপ্রাপ্ত গায়িকা স্বাগতালক্ষী দাসগুপ্ত ও বাংলা টেলিভিশন ও সিনেমা জগতের সুখ্যাত অভিনেত্রী খেয়ালী দস্তিদার। সঞ্চালক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, ত্রিদিব কুমার চট্টোপাধ্যায়।

 

“গোটা পাড়া তখন ক্ষয়াটে আলোর শাসনে।” এইরকম ভাবেই তাঁর লেখা একটি ছোট গল্প পড়তে শুরু করলেন নচিকেতা চক্রবর্তী। গল্পের মূল চরিত্রগুলির নাম ঘটাদা ও হরেনদা। তাঁরাও অনেকটা নচিকেতা চক্রবর্তীর মতন; এই মনে হয় বুঝতে পারছি আবার পরমুহূর্তে মনে হয় বুঝতে পারছি না।নচিকেতা বরাবরি বলে থাকেন যে তিনি মহাভারতের বিশাল ভক্ত। আজ নচিকেতা মহাভারত, রোমান মাইথোলজি, গ্রিক মাইথোলজি এবং আজকের সভ্যতা কে এক জায়গায় এনে এক অসাধারণ গল্প পড়লেন। বেশ একটা ভার তৈরি হয়েছে আজকের এই অধিবেশনে। এইরকম গল্প তিনিই লিখতে পারেন।   

dsc_0403

 এরই মধ্যেই ভারিক্কি কাটিয়ে উঠে ছোট গল্প পড়া শুরু করলেন অভিনেত্রী  খেয়ালী দস্তিদার। খেয়ালী দস্তিদারের গল্পের নাম “রামধনু”। গল্পের মুখ্য চরিত্রের নামও রামধনু। একটি ছোট্ট ছেলে, তার চাঁদে যাওয়ার ইচ্ছে, লোভ, মূল্যবোধ দিয়ে সাজানো এই অদ্ভুত গল্প। কখনো পুরনো ডাইরি পড়তে গেলে দেখবেন, চোখের জল আপনার শাসনে থাকে না। এই গল্পও সেরকমই। আর ঠিক যেমন কালো মেঘের আড়াল থেকে বৃষ্টি শেষ হওয়ার পর রামধনু দেখা যায়, এই আসরেও মেঘ-টা তৈরি করেছিলেন নচিকেতা আর সেটা রামধনু দিয়ে ভাঙলেন খেয়ালী দস্তিদার।

dsc_0415

 রামধনুর পরে এই শহর কোলকাতা ছাড়া আর কিসের কথাই বা আসতে পারে। স্বাগতালক্ষী দাসগুপ্ত তার লেখা এই শহর কোলকাতা নিয়ে একটি অসামান্য কবিতা পড়লেন। তিনি গানও গাইলেন। তিনি রবীন্দ্রনাথের “দাঁড়িয়ে আছো তুমি আমার গানের ওপারে”-র তার করা ইংরেজি অনুবাদটি পড়লেন। শেষ করলেন তার ছোট্ট বেলায় লেখা একটি কবিতা পাঠ করে

এই অধিবেশনে, সব দর্শকই মন্ত্রমুগ্ধ হয়ে ছিলেন কারণ এই একটি অধিবেশনেই সাহিত্যের সাথে সরাসরি যোগাযোগ হয়েছে মানুষের। নচিকেতা চক্রবর্তীর একটা গানের লাইন দিয়ে এই অধিবেশন-টি কে সারমর্ম বোঝানো যায়, “ঘিরে ধরে কুয়াশা যখন…”

-অগ্নীশ কুমার দাশ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *