রসেবসে অনুগল্পে যুযুধান প্রতিপক্ষ

#ABSU16 এর দ্বিতীয় অধিবেশন এর বিষয়বস্তু ছিল “অনু-পরমাণু গল্প কবিতা হুজুগ না সাহিত্য?” বাঙ্গালী বরাবরই তর্কপ্রিয়, তাই দুই পক্ষের মধ্যে নারদ-নারদ বলে লেগে যেতে খুব বেশি সময় লাগেনি। আমাদের একদিকে ছিলেন অনিন্দ্য চট্টোপাধ্যায় আর সৈকত  মুখোপাধ্যায় আর আরেকদিকে ছিলেন কমলিনী চট্টোপাধ্যায় আর চুমকি চট্টোপাধ্যায়। শুরু হয়েছিল অনুগল্প কী খায় না মাথায় দেয় এই তর্ক নিয়ে। অনুগল্প হল যার শব্দসংখ্যা নেহাতই কম। বাংলা সাহিত্যে এর যাত্রা শুরু বনফুলের হাত ধরে। যুযুধানে প্রথম ঘি ঢাললেন যাদবপুর তুলনামূলক সাহিত্যের ছাত্রী কমলিনি যিনি স্রেফ হুজুগের বশেই বছর পাঁচেক আগে খুলে ফেলেছিলেন কবিতাক্লাব। তাঁর মতে সময়ই হল আসল উপাদান অনু গল্পের। ছোট করে লেখার অভ্যেস সেই ছোটবেলা থেকে- এক কথায় প্রকাশ কিংবা প্রেসি। তাই গল্প কয়েকটা শব্দের হলেও রসসিক্ত হলে প্রাত্যহিক জীবনে অনুগল্প বেশ উল্লেখ্য।

বিপক্ষের সৈকতবাবু অনু কবিতাকে অপরিহার্য মেনে নিলেও অনু গল্পের সাহিত্যপদবাচ্যতা নিয়ে যথেষ্ট সন্দিহান। কিশোর বয়েসের পত্রিকা কিন্নরে শক্তি চট্টোপাধ্যায়ের থেকে অপ্রত্যাশিত ভাবে পাওয়া কবিতা “চিঠি এসে মনে আছে সকালে..” কিংবা শঙ্খ ঘোষ এর ‘এপিটাফ’ রসদ যুগিয়ে গেল তার বক্তব্যে। তবে তাঁর মতে অনুগল্প আদর্শ গল্পের দাবিগুলো পূরণ করে না। আমাদের পরবর্তী বক্তা চুমকি মুখোপাধ্যায় সাহিত্যের মানুষ না হয়েও অনুগল্পের অসম্ভব ভক্ত। তাঁর মতে জীবনের প্রতিটি গল্প এক একটি অনুগল্প যার মধ্যে অসম্ভব একটা চ্যালেঞ্জ আছে। শেষ বক্তা ছিলেন অনিন্দ্য চট্টোপাধ্যায় যিনি শুরুই করলেন বেশ খুনসুটি করে। তাঁর মতে গল্পের ছাঁচ যাই হোক না কেন উতরোল কি না সেটাই দেখবার বিষয়। তবে এই উতরানো ব্যাপারটা যে কি-কে করে-কিভাবে হয় সেটার ব্যাপারে অবশ্য আলোকপাত করেননি। তবে অনিন্দ্য আগামী দিনের অসম্ভব এক সম্ভাবনার কথা বলেছেন বটে- অনু গান।