হাস্যরসে পরিপূর্ণ প্রথম অধিবেশন

img_1051

 আজ ২১শে অক্টোবর, অক্সফোর্ড বুকস্টোরে, এপিজে বাংলা সাহিত্য উৎসব ২০১৬ র উদ্বোধন প্রবাদপ্রতিম কবি শঙ্খ ঘোষ দ্বারা সম্পন্ন হল। উদ্বোধন অনুষ্ঠানে পত্র ভারতীর কর্তা শ্রী ত্রিদিব কুমার চট্টোপাধ্যায় গোটা দুই দিনের সূচির বিষয়ে অল্প শব্দে বললেন। কবি শঙ্খ ঘোষ দর্শকদের এক মিনিট নীরবতা পালন করতে অনুরোধ করলেন। প্রথম অধিবেশনের বক্তা হিসাবে উপস্থিত ছিলেন আনন্দ পুরস্কার প্রাপ্ত অভিজ্ঞ ঔপন্যাসিক তথা ছোট গল্প লেখক শ্রী সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়; পদ্মশ্রী ও সাহিত্য একাডেমী পুরস্কার প্রাপ্ত স্বনামধন্য ঔপন্যাসিক শ্রীমতি নবনীতা দেব সেন ও বাংলাদেশের শিশু একাডেমীর সভাপতি, ‘সার্ক’ পুরস্কারে ভূষিত ঔপন্যাসিক শ্রীমতি সেলিনা হোসেন।  এই অধিবেশনে দুই বাংলার অহঙ্কার এই তিন প্রতিভাশালী অক্ষরজীবী দর্শকদের মনকে কথার আলিঙ্গনে বদ্ধ করে ব্যক্ত করেন এক জন সাধারণ পাঠক হিসাবে কোন ধরনের লেখা পড়লে আমরা আহ্লাদিত হই।

প্রথমে নিজের বক্তব্য রাখলেন বাংলাদেশের ঔপন্যাসিক  শ্রীমতি সেলিনা হোসেন। তিনি প্রথম জীবনে কবিতা লিখেছিলেন সেইটা আমাদের জানালেন। কথায় কথায় তিনি সোনাময়ী নামক এক নারীর কথা বলেন যে চালের বস্তা বাঁচাতে নিজের সবটুকু উজাড় করে দিয়েছিল। এই ঘটনা থেকে তার এই উপলব্ধি হয়েছিল যে উপন্যাস লিখতেই তার পূর্ণতা বোধ হয়, কারণ তিনি বুঝেছিলেন  যে কবিতা তার ‘ক্যান্ভাস’ হতে পারে না। সবার বলা শেষ হলে পরে তাঁকে আবার বলতে অনুরোধ করেন সঞ্চালক মহাশয়। তিনি ওপার বাংলার অতিথি, তাই তাঁর জীবনের একটা ঘটনার কথা বললেন।

শ্রী সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায় এই বক্তব্য দিয়ে শুরু করলেন যে তিনি এই রকম লেখা লিখতে ভালোবাসেন যা “সম্পাদক মহাশয়রা পত্রপাঠ ফেরত দেবেন না”। হাস্যরসে পূর্ণ ছিল তার ভাষণ। তিনি এমন কথার ফুলঝুরি ছড়িয়েছেন যে ক্ষণে ক্ষণে দর্শকরা হাত তালি দিয়ে উঠছিলেন। শরৎচন্দ্রের কথা উল্লেখ করে তিনি বলতে থাকলেন ঠিক কী কী না থাকলে একটা লেখা “লেখা” হয়ে উঠতে অক্ষম হয়।

সবশেষে শ্রীমতি নবনীতা দেব সেন এসেই আগের দুই বক্তাদের মধ্যে ফারাকটা দর্শকদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিলেন। তিনি নিজের ব্যাপারে বললেন যে “কী লিখলে আমার আত্মপ্রকাশে সুবিধা হবে” সেটা ভেবে তিনি লেখেননি। এরপর তিনি বলেন যে “আমার কবিতা লিখতেই সব থেকে ভালো লাগে” কিন্তু “প্রতিটা কবিতা” ওনার “শত্রু”। গদ্যের বিষয়ে উনি বললেন যে সহজ গদ্যে লেখা একেবারেই সহজ নয়। নিজেকে “ডিসিপ্লিন্ড” বলাতে ত্রিদিব বাবু আপত্তি করে বলে ওঠেন যে তিনি পেরুতে দিয়ে চিৎ হয়ে পড়েছিলেন তাহলে ঠিক কোন দিক থেকে তিনি “ডিসিপ্লিন্ড”? শ্রীমতি নবনীতা দেব সেন এই বলে শেষ করলেন যে তিনি সবধরনের লেখা লিখতেই ভালোবাসেন।

শ্রী সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায় শেষে বললেন যে তাঁর লেখাতে প্রত্যেক লেখাতেই নারী মা দুর্গার রূপ, এবং পুরুষরা নিতান্তই মহিষাসুরের ন্যায় মায়ের পায়ের কাছে পড়ে থাকার যোগ্য। এরপর ত্রিদিব কুমার চট্টোপাধ্যায় আয়োজকদের অনুরোধ করেন যে তারা যেন সাহিত্যিকদের অক্সফোর্ড বুকস্টোর ও পত্রভারতীর তরফ থেকে ছোট ছোট উপহার প্রদান করেন। সেটা সম্পন্ন হওয়ার পর অধিবেশন সমাপ্ত হয়।

দর্শকদের মনে এই অধিবেশনের ছাপ যে দৃঢ় ভাবে পড়েছে তা সহজেই বোধগম্য। বক্তারা তাদের মুক্তোর মত বাণীর এক অদৃশ্য আচ্ছাদনে ঢেকে দিয়েছিলেন যেন মঞ্চের এপারের লোকেদের।

dsc_0077