চলচ্চিত্রে গোয়েন্দা এবং অন্যান্য

“অন্তরে অতৃপ্তি রবে, সাঙ্গ করি মনে হবে, শেষ হইয়াও হইল না শেষ”- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। থেকে থেকে মনে হচ্ছে আমজনতার যে, আর একটু কেন হল না? ঠিক যেমন এপিজে বাংলা সাহিত্য উৎসবের দ্বিতীয় দিনের চতুর্থ অধিবেশনে উপস্থিত বড় পর্দার গোয়েন্দারা পরের ঘটনার জন্য উন্মুখ হয়ে থাকে, দর্শকরাও পরের বারের জন্য অধীর অপেক্ষায় থাকবে এই বিষয়ে কোনো সন্দেহ  নেই। এই অধিবেশনে উপস্থিত ছিলেন আমাদের সবার প্রিয় ফেলুদা সব্যসাচী চক্রবর্তী এবং স্বনামধন্য পরিচালক অরিন্দম শীল । এঁরা “সিনেমায় সাহিত্যের গোয়েন্দা” এই বিষয়ে বললেন।

প্রথম বক্তা হিসাবে দর্শকদের কর্ণ-মধুর বাক্যে মুগ্ধ করলেন শবর এবং ব্যোমকেশ এই দুই চরিত্রকেই যিনি বড় পর্দায় পরিচালনা করেছেন, সেই এক এবং একমাত্র অরিন্দম শীল। তিনি প্রমাণ করলেন যারা বড় পর্দায় গোয়েন্দা চলচ্চিত্রের দেখছেন তাদের সেই মুহূর্তের মনোভাবের পরিবর্তন ঘটে। তিনি বলেন,”আমাদের সবার মধ্যে একটা গোয়েন্দা বাস করে কোথাও”। একজন চলচ্চিত্রবিদ হিসাবে তিনি মনে করেন তার সব থেকে বড় বিফলতা হল তখন যখন দর্শকরা সিনেমা হল ছেড়ে চলে যায়। তাঁর মন্তব্য ,”রবীন্দ্রনাথ ও সত্যজিৎ কে আঁকড়ে ধরে রাখার সময় আমাদের পেরিয়ে গেছে।” তিনি আশা করেন যে তাঁর ভবিষ্যতের ব্যোমকেশ সিনেমাগুলি উন্নততর হবে। তিনি আরও বলেন “এমন একটা সময় এসে দাঁড়িয়েছি যেখানে চলচ্চিত্র আর সাহিত্য একে অপরের পরিপূরক। এই পরিপ্রেক্ষিতে তিনি বলেন “আমি নোলানের সাথে নিজেকে তুলনা করব না”। নিজে যখন ব্যোমকেশ পড়েন তখন নিজের মতন করে বোঝার চেষ্টা করেন। পুনরায় তাকে বলতে বলা হলে তিনি সত্যজিৎ রায়ের প্রশংসায় পঞ্চমুখ হয়ে উঠলেন। তাঁর ও সন্দীপ রায়ের মধ্যে কোনো প্রতিদ্বন্দ্বিতা নেই এটাও তিনি বলেন। সন্দীপ রায়ের এক খবরের কাগজে বলেন যে অরিন্দম শীল কখনো ফেলুদার রাইটস চায়নি। তার উত্তরে তিনি বললেন, “আজ আমি জনসমক্ষে ফেলুদার রাইটস চাইছি”

এতদিন ধরে যাকে আমরা ফেলুদা হিসাবে চিনে এবং মেনে এসছি সেই সব্যসাচী চক্রবর্তী বলেন যে তাঁর মতে আবীর চট্টোপাধ্যায় যথেষ্ট ভালো অভিনয় করেছিলেন ফেলুদার চরিত্রে। দর্শকদের উদ্দেশ্যে বলেন যে “আপনারাই শেষ বিচারক”। ফেলুদার আধুনিকীকরণের ব্যাপারে তিনি বলেন, “ফেলু-কে যদি আপডেট করা হয়, আমার কোন আপত্তি নেই। সাহিত্য ভিত্তিক সিনেমা দর্শকরা যে দেখতে ইচ্ছুক সেটা এই সাহিত্য উৎসব দেখেই বোঝা যাচ্ছে সেটাও তিনি বলেন।

শেষে এসে চমক দিয়ে গেল এপিজে বাংলা সাহিত্য উৎসব। অরিন্দম শীলের জনসমক্ষে বার্তা, দর্শকদের প্রশ্নবান, সব কিছুতেই পরিপূর্ণতা পেয়েছে এই অধিবেশন। এক পরিচালক ও এক  অভিনেতার এই মেলবন্ধনে এমন কিছু কথোপকথনে নিজেদেরকে ব্যস্ত রাখলেন যে দর্শকদের মনে আলোড়ন সৃষ্টি করে তা সহজেই বোধগম্য হয়েছে সকলের।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *