History and Heritage Exhibition 2018

বাঙালী অথচ কালীঘাটের নাম শোনেননি এমন হতে পারে না। এই কালীক্ষেত্রের সাথে সাবর্ণ রায় চৌধুরী পরিবারের
১৫৬৯ সাল থেকে সম্পর্ক। কামদেব এবং তাঁর স্ত্রী পদ্মাবতী দেবী হালিশহর থেকে কালীঘাটে এসেছিলেন সন্তান লাভের
জন্য সাধনা করতে। এই কামদেব বা জীয়া গঙ্গোপাধ্যায়ই হল সাবর্ণ পরিবারের বংশধর। কালীঘাটের মায়ের মুখমণ্ডল
খোদাই করেছিলেন সাবর্ণ পরিবারের কুলদেবী মা ভুবনেশ্বরীর রূপ দেখে আত্মারামের নির্দেশে ব্রক্ষ্মানন্দ। সাবর্ণ
পরিবারের লক্ষ্মীকান্ত রায় চৌধুরী কালীঘাটের মায়ের জন্য ৫৯৫ বিঘা জমি দান করেছিলেন।

কালিঘাটে দেবীর উদ্দেশ্যে জমি দান ছাড়াও লক্ষ্মীকান্ত গঙ্গোপাধ্যায় শুরু করেছিলেন কলকাতায় প্রথম দুর্গাপূজা
১৬১০সালে। লক্ষ্মীকান্ত গঙ্গোপাধ্যায় লাভ করেছিলেন হালিশহর থেকে দক্ষিণে ডায়মন্ডহারবার পর্যন্ত ৮টি পরগনার
জমিদারি ১৬০৮ সালে মোঘল সম্রাট জাহাঙ্গীরের কাছ থেকে।

কলকাতার ইতিহাস, ঐতিহ্য, বিবর্তন এবং সংস্কৃতির মেলবন্ধনের সাথে জড়িয়ে আছে এই সাবর্ণ রায় চৌধুরী পরিবার।
লক্ষ্মীকান্ত গঙ্গোপাধ্যায় জাহাঙ্গীরের থেকে জমিদারি ছাড়াও লাভ করেছিলেন রায়, চৌধুরী এবং মজুমদার উপাধি
১৬০৮ সালে। এই পরিবার সাবর্ণ গোত্রীয়। শুধু কালিঘাট বা দুর্গাপূজাই নয় পরিবারে ত্রিধারা সংগম লক্ষ্য করা যায়।
রাধাকান্তদেবের মন্দির, শ্যামরায়, করুণাময়ী, মা চঁণ্ডী, কেশবেশ্বর শিব মন্দির এছাড়াও বঙ্গে বহু প্রাচীন ঐতিহ্যের
সাক্ষী রয়েছে এই পরিবারের অবদানে।

আজও এই পরিবারের বড়িশা বড়বাড়ীতে ;সাবর্ণ সংগ্রহশালা; তর রয়েছে মা সারদার চিতাভস্ম, রয়েছে জাহাঙ্গীরের
হীরের আংটি, রয়েছে সিরাজ-উদ-দৌল্লার ব্যবহৃত ছোরা, রয়েছে কালীঘাটের সতীঅংশের প্রথম স্নানযাত্রার বস্ত্র সহ বহু
মূল্যবান এবং ঐতিহাসিক নিদর্শন।

এবছরও সাবর্ণ রায় চৌধুরী পরিবার পরিষদ এবং সাবর্ণ সংগ্রহশালার তরফে ত্রয়োদশ আন্তর্জাতিক ইতিহাস উৎসব
আয়োজন হতে চলেছে ৪ঠা থেকে ৭ই ফেব্রুয়ারি বড়িশায় সাবর্ণদের বড়বাড়ীতে। প্রদর্শনী সকাল ১০টা থেকে রাত ৯টা
পর্যন্ত। এবছরের মূল আকর্ষণ ভানু বন্দোপাধ্যায় এর সম্পূর্ণ জীবনগাঁথা এবং তাঁর ব্যবহৃত জিনিস। এছাড়া থাকছে
রবীন্দ্রনাথ, নজরুল, প্রেমেন্দ্র মিত্র, অন্নদাশঙ্কর , রাজশেখর বসু, ডঃ বিধানচন্দ্র রায়ের মতোন ব্যক্তিরা সাবর্ণ পরিবারে
যে সব চিঠি লিখেছেন তার প্রদর্শনী। থাকছে অষ্টাদশ থেকে বিংশ শতাব্দীতে সাবর্ণ পরিবারে ব্যবহৃত গয়নার বাক্সের
সমাহার। রয়েছে বাংলার প্রচীন ঐতিহ্য টেরাকোটার নিদর্শন। সাবর্ণ সংগ্রহশালার সঙ্গে যুক্ত থাকে প্রতিবছরই একটি
করে থিমকান্ট্রি। প্রতিবছরের মতন এবারও প্রদর্শনীর থিমকান্ট্রিঃ থাইল্যান্ড। থাইল্যান্ড কনস্যুলেট এ ব্যাপারে সাহায্যর
হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন। সংগ্রহশালার প্রদর্শনী দেখার আগে চখে পড়বে ভারতের ইতিহাস, কলকাতার ইতিহাস ও সাবর্ণ
রায় চৌধুরী পরিবারের ইতিহাস। কারণ সেই সমস্ত ইতিহাস থাকবে সাবর্ণদের সংগ্রহশালার প্রবেশের দুই প্রাচীরে।
সাবর্ণ সংগ্রহশালার এবার নতুন উদ্দ্যোগে আয়োজন হতে চলেছে ৬বালিগঞ্জ প্লেসের সঙ্গে যৌথ উদ্দ্যোগে একটি ফুড
ফেস্টিভ্যাল। খাদ্য উৎসবে থাকবে সাবর্ণ রায় চৌধুরী পরিবারের কিছু গোপন রান্নার পদ। খাদ্য উৎসব চলবে ২রা
ফেব্রুয়ারি থেকে ১০ই ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত।

অতীতে বহু বিখ্যাত ব্যক্তিত্ব যেমন – শ্রী সন্দীপ রায় , শ্রী গৌতম ঘোষ , শ্রীমতী নবনীতা দেব সেন
প্রমুখ এই প্রদর্শনী তে এসে এঁকে গৌরবান্বিত করেছেন। এই Exhibiton এর অনলাইন ব্লগিং পার্টনার
“KOLKATA BLOGGERS”, সুতরাং এই সংক্রান্ত সমস্ত আপডেট পাবেন “KOLKATA BLOGGERS”; এর পেজ
এ। এছাড়াও সাবর্ণ রায় চৌধুরী পরিবার পরিষদের তরফ থেকে শ্রী শুভদীপ রায় চৌধুরী জানালেন- এই

প্রদর্শনীর পাশাপাশি দুটি ক্যুইজ প্রতিযোগিতা ১.Nostalgia ’18 এবং ২. “বড়িশার সবজান্তা” আয়োজন
করা হয়েছে। থাকছে বিভিন্ন আকর্ষণীয় পুরস্কার জেতার সুযোগ। সুতরাং যারা কলকাতার সুপ্রাচীন
ইতিহাস চাক্ষুষ করার সাক্ষী থাকতে চান,তাদের সকলকে এই প্রদর্শনী তে আসার আমন্ত্রন রইল।